নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

অবস্থান

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নোয়াখালী জেলা শহর থেকে আট কিলোমিটার দক্ষিণে সোনাপুর-সুবর্ণচর সড়কের পশ্চিম পাশে একশ এক একর জায়গা জুড়ে অবস্থিত।

ক্যাম্পাস


নোবিপ্রবিতে কাশফুল বন



নোবিপ্রবির শহীদ মিনার



কেন্দ্রিয় গ্রন্থাগার


নোবিপ্রবি ১০১ একর জায়গাজুড়ে অবস্থিত। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য আরো ৩০০ একর জায়গা অধিগ্রহণ করা। যেখানে একটি মেরিন স্টেশন তৈরি করা হবে। গবেষণার জন্য একটি গ্রীন হাউজ রিসার্চ সেন্টার তৈরি করা হবে যেখানে ছোট এবং বড় পরিসরে গবেষণার কাজ চালানো হবে। বর্তমানে পরিকল্পনাগুলো পক্রিয়াধীন আছে।২০১৫ সালে নোবিপ্রবিতে ১০ হাজার স্কোয়ার ফিটের নতুন লাইব্রেরি ভবন স্থাপন করা হয়। এর নির্মান খরচ প্রায় দুই কোটি বিশ লাখ টাকা।এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ তলা বিশিষ্ট প্রশাসনিক ভবন, ৫ তলা ও ১০ তলা বিশিষ্ট দুইটি একাডেমিক ভবন রয়েছে। ৫ তলা বিশিষ্ট একটি অডিটোরিয়াম ভবন রয়েছে। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার স্মরণে অডিটোরিয়ামটির নাম রাখা হয়েছে বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী মোহাম্মদ ইদ্রিস অডিটোরিয়াম। অডিটোরিয়ামটির আসন সংখ্যা প্রায় ১০০০।২০১৮ এর জানুয়ারিতে আরেকটি একাডেমিক কাম ল্যাব ভবনের কাজ শুরু হয়েছে যার আয়তন ৪ লক্ষ ৩২ হাজার বর্গফুট যা ২০২০ সালে উদ্বোধন হবে এবং তখন এটিই হবে বাংলাদেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সর্ববৃহৎ একাডেমিক ভবন ।বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫টি আবাসিক হল যথাক্রমে ভাষা শহীদ আবদুস সালাম হল, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক উকিল হল, বিবি খাদিজা হল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল এবং শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হল যার মধ্যে একটি বাংলাদেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বৃহত্তম ছাত্রী হল।

ইতিহাস

১৯৯৮ সালে বাংলাদেশের ১২টি জেলায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের আলোকে ২০০৩ সালের ২৫ আগস্ট প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্ট-২০০১ কার্যকর হয়। ২০০৩ সালের অক্টোবরে তৎকালিন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াএ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেন। ২০০৫ সালের ২৪ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে এর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ব্যরিস্টার মওদুদ আহমেদ ছিলেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি।২৩ জুন ২০০৬ ইং প্রথম একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়। শুরুতে এই বিশ্ববিদ্যালয় ৪টি বিভাগ নিয়ে এর কার্যক্রম আরম্ভ করে। এগুলো হলো: কম্পিউটার বিজ্ঞান ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশল, মৎস্য ও সামুদ্রিক বিজ্ঞান, ফার্মেসী, ফলিত রসায়ন ও রাসায়নিক প্রকৌশল। বর্তমানে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৫ টি বিভাগ চালু আছে। প্রতিবছর ১৫ জুলাই দিনটিকে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস হিসেবে পালন করা হয়।

উপাচার্যবৃন্দ

এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য ছিলেন অধ্যাপক আবুল খায়ের। বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক দিদারুল আলম।
নামস্থিতিকাল
অধ্যাপক আবুল খায়ের(২০০৫-২০০৮)
অধ্যাপক সঞ্জয় কুমার অধিকারী(২০০৮-২০১০)
অধ্যাপক এ কে এম সায়েদুল হক চৌধুরী(২০১০-২০১৪)
অধ্যাপক ডঃএম ওয়াহিদুজ্জামা(২০১৫-২০১৯)
অধ্যাপক দিদারুল আল(১২ জুন ২০১৯ - বর্তমান)

অনুষদসমূহ

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ৬টি অনুষদ ও ২টি ইনস্টিটিউট রয়েছে। ডিগ্রি প্রদানকারী বিভাগের সংখ্যা ২৮ টি।

প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদ

  • কম্পিউটার বিজ্ঞান ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশল বিভাগ
  • তথ্য ও যোগাযোগ প্রকৌশল বিভাগ
  • তড়িৎ ও তড়িৎ প্রকৌশল বিভাগ
  • ফলিত রসায়ন ও রাসায়নিক প্রকৌশল বিভাগ

বিজ্ঞান অনুষদ

  • মৎস্য ও সামুদ্রিক বিজ্ঞান বিভাগ
  • ফার্মেসী বিভাগ
  • অণুজীববিজ্ঞান বিভাগ
  • ফলিত গণিত বিভাগ
  • খাদ্য প্রযুক্তি ও পুষ্টি বিজ্ঞান বিভাগ
  • পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ
  • জৈব প্রযুক্তি ও জিন প্রকৌশল বিভাগ
  • প্রাণরসায়ন বিভাগ
  • কৃষি বিভাগ
  • পরিসংখ্যান বিভাগ
  • সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগ
  • জীববিজ্ঞান বিভাগ

সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ

  • সামাজিক বিজ্ঞান বিভাগ
  • সমাজ কল্যাণ বিভাগ
  • বাংলা বিভাগ
  • ইংরেজি বিভাগ
  • বাংলাদেশ ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক শিক্ষা বিভাগ
  • অর্থনীতি বিভাগ

ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ

  • ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ
  • ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ
  • ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগ

শিক্ষা অনুষদ

  • শিক্ষা বিভাগ
  • শিক্ষা প্রসাশন বিভাগ

আইন অনুষদ

  • আইন বিভাগ

ইনস্টিটিউট সমূহ

তথ্য প্রযুক্তি ইনস্টিটিউট

  • সফটওয়্যার প্রকৌশল বিভাগ

তথ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট

  • তথ্য বিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগ

আবাসিক হল সমূহ

ভাষা শহীদ আব্দুস সালাম হল


  • ভাষা শহীদ আব্দুস সালাম হল
  • জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল (নির্মাণাধীন)
  • বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক স্পিকার জনাব আবদুল মালেক উকিল হল
  • হযরত বিবি খাদিজা হল
  • বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হল (নির্মাণাধীন)

কৃতি ব্যক্তিত্ত্ব

অধ্যাপক

  • মোহাম্মদ বেলাল হোসেন, নিউমেনিয়া নোবিপ্রবিয়াঅ্যারেনুরাস স্মিটি নামে দুটি অমেরুদন্ডী প্রাণী আবিষ্কার করেন। নিউমেনিয়া নোবিপ্রবিয়া নামটি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) নাম থেকে নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও নেফটাইস বাংলাদেশিভিক্টোরিয়োপিসা ব্রুনেইয়েনসিস আরো দুটি অমেরুদন্ডী প্রাণী তিনি আবিষ্কার করেন।

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

ধরন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়
স্থাপিত ২০০৬
আচার্য রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ
উপাচার্য প্রফেসর ডঃ এম আহিদুজ্জামান
শিক্ষার্থী ৪৫০০ জন
ঠিকানা নোয়াখালী
শিক্ষাঙ্গন ১০১ একর
সংক্ষিপ্ত নাম NSTU (নোবিপ্রবি)
অধিভুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন
ওয়েবসাইট nstu.edu.bd